
Mouse over to zoom in
Long Pepper ( পিপল মরিচ ) 100gm
Original price was: 240.00৳ .220.00৳ Current price is: 220.00৳ .
In stock

পিপুল মরিচ (Long Pepper/Piper longum) হলো একটি ঐতিহ্যবাহী ও ভেষজগুণসম্পন্ন মশলা, যা দেখতে ছোট, লম্বা এবং কুঁচকানো মরিচের মতো। এর স্বাদ গোলমরিচের মতো তীব্র ঝাঁঝালো কিন্তু কিছুটা মিষ্টি সুবাসযুক্ত। এটি সাধারণত হজমশক্তি বৃদ্ধি, ঠান্ডা-কাশি উপশম এবং যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা হয়।
কাশি সারে: এটি ফুসফুসকে পুনরুজ্জীবিত করে এবং দীর্ঘস্থায়ী কাশি, ব্রঙ্কাইটিস ও হাঁপানি থেকে আরাম দেয়। এটি মিউকাস বা কফ বের করে দিয়ে শ্বাসনালী পরিষ্কার রাখে। খুসখুসে কাশি আর ঘুষঘুষে জ্বর। এটা যক্ষ্মা রোগের পূর্ব লক্ষণ। এরূপ অবস্থা হলে তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে ও পরীক্ষা করাতে হবে। তবে তার আগে পিপুলচূর্ণ ২৫০ মিলিলিটার সামান্য গরম জলে গুলে সকাল-বিকেল অর্থাৎ দিনে দুইবার খেতে হবে। এভাবে ৪-৫ দিন খাওয়ার পর সেটা চলে যেতে পারে। যদি না যায়, তখন অবশ্যই যক্ষ্মা রোগের পরীক্ষা করাতে হবে।
হজম ও বিপাক: পিপুল মরিচ হজমশক্তি বাড়ায় এবং পেট ফাঁপা, গ্যাস ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে। এটি বিপাক হার (metabolism) বাড়িয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
জ্বর সারায় : পিপুল মরিচ প্রাকৃতিকভাবে জ্বর কমায় এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণের কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। যে জ্বরে রক্তের বল কমে যাচ্ছে, শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে, চামড়া শুষ্ক হয়ে পড়ছে, চোখ ফ্যাকাসে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলছে, অথচ জ্বর সারছে না। সেক্ষেত্রে ২৫০ মিলিগ্রাম পিপুল চূর্ণ ৫/১০ ফোঁটা ঘি মিশিয়ে রোজ খেলে কয়েক দিনের মধ্যে এই জীর্ণ জ্বর সেরে যাবে।
মেদ কমায়: যারা মোটা ও মেদস্বী তারা মেদ কমাতে চাইলে রোজ খাওয়ার ১০-১৫ মিনিট পর ১ কাপ হালকা গরম জলে ২৫০ মিলিগ্রাম পিপুল চূর্ণ গুলে তাতে আধা চা-চামচ মধু মিশিয়ে খাবেন। দিনে দুইবার খাওয়া যায়। এভাবে ১০-১৫ দিন খেলে মেদ কমবে। এ সময় কোনো চিনি বা মিষ্টি খাওয়া চলবে না ও একবেলা ভাত ও দুইবেলা রুটি খেতে হবে। এটা খাওয়ার ১ ঘণ্টার মধ্যে কোনো শক্ত খাবার খাওয়া যাবে না, তবে তরল খাবার খাওয়া যেতে পারে।
হাঁপানির উপশম হয়: অল্প পরিশ্রমে যাদের শ্বাসকষ্ট হয়, হাঁপ ধরে তারা পিপুলচূর্ণ ২৫০ মিলিলিটার সামান্য ১ কাপ জলে গুলে খাবার গ্রহণের কিছু পরে খেতে পারেন। তা না হলে ২ গ্রাম পিপুল ফল একটু থেঁতো করে ৪ কাপ জলে সিদ্ধ করে ১ কাপ থাকতে নামিয়ে ২-৩ ঘণ্টা পর পর তা ৩-৪ বারে খেতে পারেন। এতে শ্বাসের কষ্ট কমবে।
যৌন স্বাস্থ্য: পিপুল মরিচ শরীরের শক্তি ও জীবনীশক্তি বাড়ায় এবং ঐতিহ্যগতভাবে যৌন দুর্বলতা দূর করতে ব্যবহৃত হয়।
কৃমি কমায়: শিশু বৃদ্ধ যারই গুঁড়া বা ঝুড়ো কৃমি হোক তাদের উচিত রোজ সকাল-বিকেল ১ কাপ বাসি জলে ২৫০ মিলিগ্রাম পিপুল চূর্ণ গুলে খাওয়া। এতে কৃমির উপদ্রব কমবে।
মাথাব্যথা কমায়: মাথা ব্যথা হলে তা সারানোর সবচেয়ে সহজ ওষুধ হলো পিপুল ফল বেঁটে মলমের মতো করে কপালে লেপে দেয়া। এতে দ্রুত মাথাব্যথা কমে। এছাড়া পিপুল, গোলমরিচ ও আদা একসাথে জলের সাথে বেঁটে ছেঁকে সেই রস রোগীকে খাওয়ানো। এতেও মাথাব্যথার উপশম হয়।
দাঁত ব্যথা সারায়: দাঁতে যন্ত্রণা হলে ১-২ গ্রাম পিপুল চূর্ণ লবণ, হলুদের গুঁড়া ও সরিষার তেলে মিশিয়ে দাঁতের ব্যথা স্থানে লাগালে তা কমে যায়।
যকৃতের কার্যকারিতা: এটি যকৃতকে (liver) বিষমুক্ত করে এবং এর কর্মক্ষমতা উন্নত করে
হৃদরোগে: সমপরিমাণ পিপুল মূল ও দারচিনি একসাথে বেঁটে মিহি গুঁড়া করতে হবে। তারপর তা ঘিয়ের সাথে মিশিয়ে রোজ দুইবার খেতে হবে। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য ও হৃদরোগের উপশম হয়। সমপরিমাণ শুকনো পিপুল মূল ও লেবুর গাছের শিকড়ের বাকল একসাথে বেঁটে গুঁড়া বানাতে হবে। রাতে ১ কাপ জলে অর্জুনের ছাল ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে সেই অর্জুনের ক্বাথের সাথে এই চূর্ণ মিশিয়ে খালি পেটে খেতে হবে। এতে হৃৎপিণ্ডের ব্যথা থাকলে তাও সেরে যায়।
ব্যথা ও প্রদাহ হ্রাস: এটি একটি প্রাকৃতিক ব্যথানাশক (analgesic) হিসেবে কাজ করে এবং বাতের ব্যথা ও পেশীর ব্যথা কমাতে সহায়তা করে।
অর্শ নিরাময় করে: অর্শ হলে আধা চা-চামচ পিপুল চূর্ণ, ভাজা জিরার গুঁড়া সামান্য লবণ ১ গ্লাস ঘোলে মিশিয়ে খালি পেটে খেতে হবে। এতে অর্শ রোগ কমে যাবে। ঘোল পাওয়া না গেলে ছাগলের দুধে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এমনকি এই মিশ্রণ জ্বাল দিয়ে ঘন করে মলমের মতো অর্শের বুটিতে লাগিয়ে দেয়া যায়।
কীট দংশনের ব্যথা কমায়: পিপুলের শিকড় বেঁটে পোকামাকড়ের কামড়ানো স্থানে লেপে দিলে দ্রুত ব্যথা কমে যায়।
সতর্কতা: দুধের শিশু, গর্ভবতী ও প্রসূতিদের পিপুল খাওয়ানো চলবে না। মাত্রারিক্ত সেবনে অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে, অন্ত্র ফুলে যেতে পারে ও দেহের তাপ বেড়ে যেতে পারে।
Reviews
There are no reviews yet.