Ajwain Powder (জোয়ান গুড়া)-100gm

Original price was: 120.00৳ .Current price is: 110.00৳ .

In stock

  • homepage-new-image-box-img-1
    Free Shipping
    For all orders over 2000৳
  • homepage-new-image-box-img-2
    1 & 1 Returns
    Cancellation after 1 day
  • homepage-new-image-box-img-3
    Secure Payment
    100% secure payments
Hotline Order:

01312-484964
01843-484964

Become a Vendor? Register now

প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করে আসছে তার স্বাস্থ্য ও সুস্থতা রক্ষার জন্য। এই প্রাকৃতিক সম্পদগুলির মধ্যে জোয়ান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য উদ্ভিদ। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই গুল্মজাতীয় উদ্ভিদটি সহজেই পাওয়া যায়। আজওয়ান বা জোয়ান দেখতে জিরার মতো হলেও এর স্বাদ ও গন্ধ ভিন্ন। এটি ক্যারম সিড, বিশপস উইড ও আজওয়ান ক্যারাওয়ে নামেও পরিচিত। জোয়ানবীজে থাকে ‘আজওয়ান তেল’। এই তেলে থাইমল থাকে। থাইমল সাধারণত হজমের সমস্যা নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। জোয়ানে অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণও আছে। এ ছাড়া জোয়ানের আরও উপকারিতা রয়েছে। জোয়ানের বিভিন্ন উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করব, যা এর ব্যবহারকে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। জোয়ানের পুষ্টিগুণ, ঔষধি বৈশিষ্ট্য এবং দৈনন্দিন জীবনে এর প্রয়োগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে, যা পাঠকদের এই অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদের সম্পূর্ণ সুবিধা নিতে সাহায্য করবে।

 

জোয়ানের পুষ্টিগুণ: জোয়ান ফাইবার ও খনিজসমৃদ্ধ। এক চা-চামচ জোয়ানে রয়েছে ৫ ক্যালরি, প্রোটিন ১ গ্রামের কম, ফ্যাট ১ গ্রামের কম, কার্বোহাইড্রেট ১ গ্রাম, ফাইবার ১ গ্রাম। এ ছাড়া এতে রয়েছে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, এসেনশিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিড।

হজমক্ষমতা উন্নত করে: জোয়ানে থাকা বিশেষ এনজাইমগুলো পেটের অ্যাসিডের প্রবাহ বাড়িয়ে হজমপ্রক্রিয়াকে উন্নত করতে সাহায্য করে। এই অ্যাসিড হজমের সমস্যা, ফোলাভাব ও গ্যাসের সমস্যা দূর করতে কার্যকর। এ ছাড়া জোয়ান পেপটিক আলসার এবং খাদ্যনালি, পেট ও অন্ত্রের ঘা দ্রুত নিরাময়ে সাহায্য করতে পারে।

সংক্রমণ প্রতিরোধ করে: জোয়ানের উপাদান ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে। এটি সালমোনেলা এবং ই কোলাই ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধেও লড়াই করে। এগুলো খাদ্যে বিষক্রিয়া ও অন্যান্য পেটের সমস্যার কারণ।

দাঁতব্যথা কমাতে সহায়ক: দাঁতব্যথায় কষ্ট করছেন? তাহলে জোয়ান খেতে পারেন। কারণ, জোয়ানের থাইমল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তেলের প্রদাহবিরোধী গুণ আছে। তাই এটি দাঁতব্যথা কমাতে সহায়তা করতে পারে। থাইমল মুখের ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে বলে মুখের স্বাস্থ্য উন্নত হয়।

আর্থ্রাইটিসের ব্যথা উপশম: দিন দিন আর্থ্রাইটিসের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আর্থ্রাইটিসের কারণে হাঁটুতে ব্যথা হয়, হাঁটু ফুলে যায়। এগুলো উপশম করতে পারে জোয়ান। জোয়ান পেস্ট তৈরি করে জয়েন্টের চামড়ায় লাগালে আর্থ্রাইটিসের ব্যথা নিরাময় হয়। এ ছাড়া গরম পানিতে একমুঠো বীজ মিশিয়ে গোসল করলেও আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমতে পারে।

কাশির জন্য জোয়ান: প্রাক ক্লিনিকাল গবেষণা ইঙ্গিত করে জোয়ান হল একটি শক্তিশালী কাশিরোধক (কাশির থেকে মুক্তি দেয়। জোয়ানের কাশিরোধক হওয়ার প্রভাব আরও স্পশ্তভাবে লক্ষ্য করা যায় জোয়ানের নির্যাস সেবনের মাত্রা বাড়ালে। উপরন্তু , জোয়ানকে একটি কার্যকর সংকুচনরোধী হিসেবেও চিহ্নিত করা গেছে। সেহেতু , গলার পেশীগুলিকে আরাম দিয়ে এটি কাশি কমাতে পারে।

পাকস্থলীর জন্য জোয়ানঃ জোয়ানের বীজের একটি পেট ঠাণ্ডা করার প্রভাব রয়েছে। পেট ব্যথা, গ্যাস, ফাঁপাভাব, স্ফীতভাব এবং বদহজমের মত সমস্যা দূরীকরণে এটির কার্যকারিতার প্রমাণ রয়েছে। আয়ুর্বেদ অনুযায়ী জোয়ানের বীজ ডাইরিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যার বিরুদ্ধেও কার্যকর কারণ এতে পাচনকারী এনজাইমগুলির নিঃসরণ উন্নত হয় ।

ওজন কমানোর ও কোলেস্টেরল পরিচালনের ক্ষেত্রে জোয়ানঃ হজমের প্রধান সমস্যাগুলি থেকে মুক্তি দেওয়ার সাথে সাথে জোয়ানের বীজ জলের সাথে খেলে ওজন ও কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে ।

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহবিরোধী হিসেবে জোয়ানঃ বিভিন্ন ধরণের অণুজীবের ওপর জোয়ানের প্রভাবের প্রমাণ রয়েছে, যা পেটের ক্রিমির চিকিৎসার জন্য লাভদায়ক। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য ত্বকের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে এবং এর প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য বাতের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

মাসিকের সময়ে হওয়া সঙ্কুচনের জন্য জোয়ান: মাসিকের সময় হওয়া সংকুচন একটি বিরক্তিজনক ও বারবার ফিরে আসা একটি অবস্থা। এটি চিহ্নিত করা হয় তলপেটে ব্যথার দ্বারা যা মাসিক চক্রের আগে বা চলাকালীন শুরু হয়। এটি হওয়ার কারণ যদিও ফাইব্রয়েড এবং PCOS ধরা হয় , কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় শরীরচর্চার অভাবে বা দৈহিক গঠনের কারণে হয়ে থাকে। প্রাক ক্লিনিকাল কিছু গবেষণা জোয়ানের বীজ কে একটি শক্তিশালী সঙ্কুচনবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করে। যার মানে হল তলপেটে পেশী সংকোচন বা মাসিকের ব্যথা কমাতে জোয়ান আপনাকে সাহায্য করতে পারে। এই নিয়ে ক্লিনিকাল গবেষণা এখনও চলছে । সেহেতু মাসিক চলাকালীন জোয়ানের বীজের উপকারিতা এবং সঠিক ডোজ বুঝতে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া বাঞ্ছনীয়  ।

জোয়ানের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা: জোয়ানের বীজের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করবার জন্য অসংখ্য গবেষণা হয়েছে। এবং সব ইঙ্গিত করে যে জোয়ানের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সবুজ ফার্মেসীর  আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয় জোয়ানের বীজ থেকে তৈরি অপরিহার্য তেল একটি দুর্দান্ত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। জার্নাল অফ ফার্মাকগনোসি এবং ফাইটোকেমিস্ট্রিতে প্রকাশ হওয়া একটি গবেষণা ইঙ্গিত করে যে হিমায়িত জোয়ানের বীজ টাটকা জোয়ানের বীজের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এও প্রস্তাব করা হয় যে এই গাছড়াটির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনার কারণ এর বীজে থাকা ফেনলিক্স।

চুলের জন্য জোয়ান: আজকের দিনের ব্যস্ত এবং অবসাদগ্রস্থ জীবনধারায় চুলের যত্ন করার জন্য সময় বের করা খুবই কঠিন। প্রসাধনী এবং কন্ডিশানারে ব্যবহৃত রাসায়নিক চুল হয়তো চকচকে করে তোলে কিন্তু যখন সংক্রমণ বা মাথার ত্বকের যত্নের প্রসঙ্গ আসে তখন এগুলি ততটা কার্যকর নয়। এর সাথে যোগ করুন বেড়ে চলা দূষণ এবং এর ফলে সম্পূর্ণরূপে অসম্ভব হয়ে ওঠে অসুখ এবং সংক্রমণ এড়ানো। গবেষকদের মতে, চুলে ছত্রাক এবং ত্বকে সংক্রমণ অত্যন্ত সাধারণ ব্যাপার হয়ে উঠছে অত্যন্ত দ্রুত, বিশেষত ক্রাঁতিবৃত্তের তাপ এবং আর্দ্রতার কারণে। এর সাথে যোগ করুন ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণুর বেড়ে ওঠা, যার ফলে আজকের দিনে এই সাধারণ সংক্রমণগুলির বিরুদ্ধে লরাই অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য জোয়ান: যদিও এখনও পর্যন্ত কোন জোয়ানের রেচক হিসেবে বৈশিষ্ট্যের ব্যপারে কোন বিশিষ্ট গবেষণা হয়নি , তবুও কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে এটি অন্যতম বিশ্বাসযোগ্য নিরাময় হিসেবে ধরা হয় । গবেষণাগারে হওয়া কিছু গবেষণা ইঙ্গিত করে যে জোয়ান হজমের প্রক্রিয়াটি উন্নত করে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল ট্র্যাক্ট দিয়ে খাবার পাথানর পাশপাশি। এই দুটি কারণের জন্য জোয়ানকে কোষ্ঠকাঠিন্যের একটি আকর্ষণীয় নিরাময় মনে করা হয়।

গ্যাসের জন্য জোয়ান: প্রথাগত ও লোক-ঔষধ জোয়ানকে গ্যাস এবং স্ফীতভাবের দুর্দান্ত নিরাময় হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। গ্যাসের জন্য একটি প্রথাগত প্রণালী তৈরি করা হয় 1:1:1 অনুপাতে নেওয়া 60 গ্রাম শিলা লবণ, কালো লবণ, এবং টেবিল লবণের মিশ্রণের সাথে 500 গ্রাম জোয়ানের বীজ মিশিয়ে । এই মিশ্রণটি 1 টেবিল চামচ করে গরম জলের সাথে মিশিয়ে খেলে গ্যাস, বমি বমি ভাব এবং বমির লক্ষণগুলির থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। আয়ুর্বেদিক ডাক্তারদের অনুযায়ী, জোয়ান মল সহজভাবে বেড়িয়ে যেতে সাহায্য করে অন্ত্রে গ্যাস হওয়া কমায়।

 

জোয়ান খাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব সতর্কতা মেনে চলবেন

অতিরিক্ত সেবন এড়ান: দৈনিক 1-2 চা চামচের বেশি জোয়ান খাওয়া উচিত নয়। অতিরিক্ত সেবনে পেটে গ্যাস, বমি ভাব হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় সতর্কতা: গর্ভবতী মহিলাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া জোয়ান খাওয়া উচিত নয়। অতিরিক্ত জোয়ান গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া: বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও রক্তচাপের ওষুধ খেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জোয়ান কিছু ওষুধের কার্যকারিতা বাড়াতে বা কমাতে পারে।

এলার্জি সম্পর্কে সচেতন থাকুন: প্রথমবার অল্প পরিমাণে খেয়ে শরীরের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করুন। এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে সেবন বন্ধ করুন।

Add your review

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Reviews

There are no reviews yet.