কালোজিরা একটি মাঝারি আকৃতির মৌসুমী গাছ, একবার ফুল ও ফল হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Nigella Sativa Linn। কালোজিরাতে আছে ফসফেট,লৌহ ও ফসফরাস। এছাড়াও রয়েছে ক্যানসার প্রতিরোধক কেরটিন, বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধকারী উপাদান এবং অম্ল রোগের প্রতিষেধক।

আবদুল্লাহ ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ... খালিদ ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা (যুদ্ধের উদ্দেশ্যে) বের হলাম। আমাদের সংগে ছিলেন গালিব ইবনু আবযার। তিনি পথে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। এরপর আমরা মদিনায় আসলাম তখনও তিনি অসুস্থ ছিলেন। তাকে দেখাশোনা করতে আসেন ইবনু আবূ আতীক। তিনি আমাদের বললেনঃ তোমরা এই কালো জিরা সংগে রেখো। এ থেকে পাঁচটি কিংবা সাতটি দানা নিয়ে পিষে খাবে, তারপর তন্মধ্যে যায়তুনের কয়েক ফোটা তৈল ঢেলে দিয়ে তার নাকের এ দিক-ওদিকের ছিদ্র পথে ফোটা ফোটা করে ঢ়ুকিয়ে দেবে। কেননা আয়িশা (রাঃ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেনঃ এই কালো জিরা ’সাম’ ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ। আমি বললামঃ সাম- কি? তিনি বললেনঃ সাম- অর্থ মৃত্যু।


কালোজিরার উপকারিতা গুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো :

১.ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে কালোজিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কালোজিরা রক্তে উপস্থিত গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। তার জন্য ডায়বেটিস রোগীদের পূনরায় ঔষুধ সেবনের দরকার হয় না এবং ডায়াবেটিস রোগীরা উপকার পেয়ে থাকেন।

 ২. স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি: আমাদের জীবন চলার পথে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের কাজের চাপ ও ব্যস্ততার ফলে মানুষের ব্রেনশক্তি একঘেয়ে হয়ে পরে এবং একটা সময়ে কমবেশি সব কিছুই মানুষ ভুলতে শুরু করে বা স্মরন রাখতে পারি না। এমন সমস্যার সমাধান করতে পারে কালোজিরা। মানুষের মস্তিস্কের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করার মাধ্যমে কালোজিরা স্মরণ শক্তি বাড়িয়ে তুলতে উপকারি ভূমিকা রাখে। 

 ৩. উচ্চ রক্তচাপ কমায়: উচ্চরক্তচাপ এর মত নিরবঘাতক হতে রক্ষা পেতে কালোজিরাকে প্রতিদিনের সাথী করতে হবে। যেমন-নিয়মিত চা পানের অভ্যাস থাকলে চায়ের পানি গরম হওয়ার সাথে সাথে ১ চা চামচ কালোজিরা তেল মিশাতে হবে। খাদ্যের তালিকায় কালোজিরা ভর্তা রাখতে হবে। যে সকল মানুষের হাই ব্লাড প্রেশার বা উচ্চ রক্তচাপ আছে তাদের খাদ্যাভ্যাসে কালোজিরাকে নিত্য সাথী করতে হবে তাহলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করেI 

৪.যৌন সমস্যা সমাধান করে: কালোজিরা সেবন করলে নারী পুরুষ উভয়ের যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং যৌন সমস্যা প্রতিরোধ হয়। কালোজিরা নিয়মিত খাবারের সাথে খেলে পুরুষের স্পার্ম সংখ্যা বেড়ে যায় এবং পুরুষত্বহীনতা দূর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ,এক চা চামচ জাইতুন তেল, এক চা চামচ মাখন, এক চা চামচ কালোজিরা মধুসহ প্রতিদিন ৩ বার ৪/৫ সপ্তাহ খেতে পারলে যৌন সমস্যার দ্রুত সমাধান মিলবে।

৫. মাথা ব্যথা কমায়: মাথা ব্যাথা বর্তমান সময়ে অনেক জটিল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই মাথা ব্যাথা সমস্যা নিরসনের জন্য কালোজিরার উপকারিতা অনেক। কপালের দুই পাশে কালোজিরার তেল মালিশ করলে ৫ মিনিট সময় ধরে এতে মাথা ব্যাথা খুব সহজেই দূর হয়ে যাবে ।

৬. ত্বকের যত্ন: ত্বকের যত্নেও কালোজিরার তুলনা হয়না। কালোজিরাতে রয়েছে লিনোলেনিক এবং লিনোনেইক নামক এসেনশিয়াল ফ্যাটি এসিড যা ত্বককে ক্ষতিকর ইউভি রশ্মি থেকে রক্ষা করে এর পাশাপাশি ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে তুলতে ১ চা চামচ মধু, ১ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল, এবং ১ চা চামচ কালোজিরার তেল, এক সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন ২ বার নিয়মিত ত্বকে ম্যাসাজ করলে দ্রুত ত্বক উজ্জ্বল হবে। এছাড়াও ব্রণ সমস্যার সমাধানে কালোজিরার পেস্ট খুব ভালো কাজ করে।

 ৭. রোগ প্রতিরোধে: কালোজিরার উপকারিতা ভেজাল মিশ্রিত খাদ্যে-দ্রবাদি খাওয়ার ফলে মানুষ আজকাল নানা রকম জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে । তাই মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো ভীষণ প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কালোজিরার রয়েছে সকল রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা। কালোজিরা খাদ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কটলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায় এবং দেহের সকল অঙ্গপ্রতঙ্গ সতেজ থাকে।

 ৮. হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট রোগ নিয়ন্ত্রণ: শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি রোগীদের জন্য কালোজিরাকে অত্যাবশকীয় উপাদান হিসেবে গন্য করা হয় । কালোজিরা হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট সমস্যা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে । হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দূর করতে ১ চা চামচ কালোজিরা তেলের সাথে ১ গ্লাস দুধ মিশ্রিত করে প্রতিদিন পান করতে হবে । তাছাড়াও নিয়মিত খাদ্যের তালিকায় কালোজিরা ভর্তা রাখলে হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট রোগ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।

৯. কিডনি সমস্যার সমাধান: কিডনি জনিত যেকোনো রকমের রোগের প্রতিকারক উপাদান রয়েছে কালোজিরাতে। বিশেষ করে যাদের কিডনিতে পাথর হয়েছে তারা পাথর দূর করতে -২ চামচ কালোজিরা গুড়ো এবং ২ চামচ মধু কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে প্রতিদিন ভোরে খেতে পারেন।

১০. হাঁটু ও পিঠের ব্যথা নিরাময়: হাঁটু ও পিঠের ব্যাথা নিরাময়ে কালোজিরা অনেক উপকারক হিসেবে কাজ করে। সকল ব্যাথা থেকে মুক্তি লাভে ব্যবহার করতে হবে কালোজিরা। ৩টি মধ্যম সাইজের আদা এবং ৩-৪ টি মধ্যম সাইজের হলুদ পিষে নিয়ে , ১ চা কাপ সরিষার তেল, ২ চা কাপ নিম তেল এবং ২ চা কাপ কালোজিরা তেলের সাথে ১০-১৫ মিনিট গরম করতে হবে। এর পরে তেলটি ঠান্ডা করে নিয়ে বোতলে সংরক্ষণ করতে হবে। ব্যথার জায়গায় তেলটি মালিশ করলে সাথে সাথে ব্যথা কমে যাবে এবং প্রতিদিন ব্যবহারে করলে দীর্ঘ সময়ের সব ব্যথা নিরাময় হবে।

 ১১. সর্দি-জ্বর নিরাময়: ২ চা চামচ কালোজিরা তেল লেবু চা এর সাথে মিশ্রিত করে সকাল বিকাল খেলে সর্দি-জ্বর দ্রুত কমে যায়। এছাড়াও ১০-১২ টি তুলসিপাতা ৩ কাপ পানিতে , ৪ চা চামচ লেবুর রস, ২ চা চামচ কালোজিরা তেল এবং ১ চা চামচ মধু এক সাথে ৫ মিনিট জ্বাল দিতে হবে, এটা নিয়ম করে সকাল বিকাল খেলে ৭ দিনের মাঝে জ্বর, সর্দি-কাশি ইত্যাদি নিরাময় হয়ে যাবে।

 ১২. মেদ কমাতে: কালোজিরার উপকারিতা যাদের মেদ বৃদ্ধি পাচ্ছে তারা মেদ কমাতে বা নিজেকে ফিট রাখতে – ২ চা চামচ মধু ও ২ চামচ কালোজিরা তেল কুসুম গরম পানির সাথে নিয়মিত খেতে হবে।

১৩. অনিয়মিত মাসিক সমস্যা দূর: অনিয়মিত মাসিক সমস্যার দুর করতে কালোজিরা খাওয়ার অভ্যাস করা জরুরী। এক কাপ কাঁচা হলুদ রসে এক কাপ আতপ চাল ধোয়া পানি নিয়ে এর সাথে এক কাপ চা চামচ কালোজিরা তেল মিক্স করে প্রতিদিন ৩ বার করে খেতে হবে, এতে মাসিক সমস্যার দ্রুত সমাধান মিলবে।

১৪. বুকের দুধ বৃদ্ধি করতে: নবজাতক শিশুর মা-এদের বুকের দুূধ বৃদ্ধি করতে কালোজিরা অনেক উপকারি। যেসকল মায়েদের বুকে পর্যাপ্ত দুধ নেই, তাদের মহৌষধ হিসেবে কাজ করে কালিজিরা। মায়েরা প্রতিদিন রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ৫-১০ গ্রাম কালিজিরা মিহি করে দুধের সাথে খাওয়ার অভ্যাস করতে পরলে মাত্র ১০-১৫ দিনে বুকের দুধের প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে।


Write a review

Note: HTML is not translated!
    Bad           Good

Black Cumin ( কালো জিরা দানা) 150g

  • Product Code: Product 73
  • Availability: In Stock
  • /-100.00

  • Ex Tax: /-100.00

This product has a minimum quantity of 100

Tags: কালোজিরা/ কালোজিরার উপকারিতা/ কালোজিরার গুনাগুন /কালোজিরার তেল