জবা ফুলের উপকারিতা:

জবা ফুল অগণিত গুণসম্পন্ন। এই ফুলের রয়েছে বিভিন্ন রোগের সাথে মোকাবেলা করার ক্ষমতা। এই ফুল বিভিন্ন রোগের সাথে মোকাবেলা করে আমাদের দেহের সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করতে পারে। 

নিচে একে একে তা সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো। 

১.ক্যান্সার প্রতিরোধে: জবা ফুলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে বেশ কার্যকারী। এই ফুলের চা বানিয়ে খেলে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব।

২.চুল পড়া রোধে: চুল পড়া রোধে বেশ কার্যকারী এই জবা ফুল। নিয়ম করে নারিকেল তেলের সাথে জবা ফুল মিশিয়ে চুলে দিতে পারেন। এতে আপনার চুল পড়া রোধ হবে পাশাপাশি চুল কুচকুচে কালো হবে। যারা দীর্ঘ, উজ্জ্বল এবং স্বাস্থ্যকর চুল কামনা করেন, তাদের জন্য জবা হল চুলের যত্নের আদর্শ সম্পূরক। এটি তেল, শ্যাম্পু, কন্ডিশনার অথবা মাস্ক হিসাবে ব্যবহার হয় এবং মাথার ত্বক শীতল হয় এবং চুলের শক্তি এবং দীপ্তি বৃদ্ধি পায়।

৩.রক্তচাপ হ্রাস করে: জবার প্রদাহ-বিরোধী এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ধর্ম থাকায় রক্তচাপ হ্রাস করে বলে প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে কিছু পলিফেনল আছে, ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় যাদের রক্তচাপ হ্রাস করার গুণ দেখা গিয়েছে।

৪.টাক সমস্যায়: বহু মানুষের দেখা যায় মাথার খানিকটা অংশে চুল সম্পূর্ণ উঠে গিয়ে টাকের মত চক্‌ করছে। এরকম অবস্থা কেবল মাথায় নয়, দাড়ি এবং চোখের ভ্রুতেও হতে পারে। এটা এক ধরনের অতি ক্ষুদ্র পোকা যা চুলের কিছুটা খেয়ে ফেলে। চুল গজালেই তারা সেটা খেতে থাকে। ফলে মনে হয় টাক পড়েছে। জবা ফুল বেটে গোসল করার পর ভিজে চুল শুকিয়ে গেলে, ঐ জায়গায় দিনকতক প্রলেপ দিলে আবার নতুন চুল গজাবে এবং টাক থাকবে না। তবে রোগের প্রথম অবস্থায় ব্যবস্থা উপকার পাওয়া যাবে। তবে রোগ পুরানা হয়ে গেলে এ এত আর কাজ হবে না।

৫.ব্রণ সমস্যা দূর করতে: বয়সন্ধিকালে প্রায় অনেকের ব্রণ হয়ে থাকে। এই সমস্যা যেন দূর হতেই চায় না। জবা ফুলে রয়েছে ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-ইনফ্লাম্যাটরি যা ব্রণের সমস্যা দূর করে। 

৬.বয়সের ছাপ কমাতে: জবা ফুলে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মানুষের বয়সের ছাপ কমিয়ে আনতে সহায়তা করে। জবা ফুলের তৈরি এক ধরনের লোশন পাওয়া যায় যা ত্বকের ময়লা ভাব দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে।

৭.অতিরিক্ত ঋতুস্রাব: মহিলাদের অতিরিক্ত ঋতুস্রাবে জবাফুল পাঁচ থেকে সাতটি সামান্য গাওয়া ঘি দিয়ে ভেজে খেলে, অতিরিক্ত ঋতুস্রাব অব্যশই নিবারিত হবে। যদি এভাবে খাওয়ার অসুবিধা থাকে, পঞ্চমুখী জবার দু'টি কুঁড়ি ঢেঁকি-ছাঁটা আতপচাল ধোয়া পানি দিয়ে বেটে সেটা ৫০ মিলিলিটার পরিমাণ খেলে ঋতুর পরিমাণ স্বাভাবকি হবে; পঞ্চমুখী জবাফুলের রং অবশ্যই লাল হবে।

৮.অনিয়মিত মাসিক: অনিয়মিত মাসিক শুরু হলেও এক থেকে দেড় দিনের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। আবার কোন সময় মাসিক শুরু হবার নির্দিষ্ট দিন পার হয়ে গেলে আদৌ ঋতু হয় না। তিনটি পঞ্চমুখী জবাব কুঁড়ি, দারুচিনি ৫০০ মিলিগ্রাম, এ দু'টি একসাথে বেটে শরবতের মত খেলে মেয়েদের স্রাব স্বাভাবিক হয়।

৯.ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে: জবা ফুলের নির্যাস ক্ষত নিরাময় করে এবং চামড়ার ভাঙার বল বৃদ্ধি করে। এটি ক্ষতের স্থানে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ রোধ করে।

১০.ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র: এই রোগে প্রচণ্ড পিপাসা বোধ হয়। কাজেই তৃষ্ণা মিটাতে যেমন রোগী প্রচুর পরিমাণে পানি পান করে, তেমনি প্রস্রাবও হয় ঘন ঘন। গরমকালে হলে কষ্ট বেশি হয়। জবাগাছের ছালের রস দেড় চামচ এবং ঠাণ্ডা পানি আধ কাপ তার সাথে মিশিয়ে সেটা সকালে একবার করে কয়েকদিন খেলে প্রচণ্ড পিপাসা যেমন কমবে, তেমনি ঘন ঘন প্রস্রাবও বন্ধ হয়ে যাবে।


*চুলের জন্য জবার পণ্য

জবার তেল:

জবার দ্বিতীয় বৃহত্তম পণ্য হল জবার তেল। এই তেল ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। ভিটামিন সি অ্যামিনো অ্যাসিডকে উদ্বুদ্ধ করে চুলের দৃঢ়তা এবং কোলাজেন বৃদ্ধি করে। ফলে চুল দীর্ঘ হয়, চুলের গোঁড়া শক্ত হয় এবং চুলের পরিমাণ বাড়ে। 

জবার শ্যাম্পু:

চুলের বৃদ্ধিতে এর প্রভাবের কারণে জবা ফুলের বিভিন্ন অংশ দিয়ে শ্যাম্পু তৈরি হয়। সাধারণ শ্যাম্পুর পরিবর্তে জবার শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুলের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি পায়।

জবার হেয়ার কন্ডিশনার:

জবা ফুল এবং পাতা থেকে জেল'এর মত যে বস্তুটি পাওয়া যায়, তার উত্তম কন্ডিশানিং গুণ আছে। শুষ্ক ও জীর্ণ চুলকে জবার নির্যাস দিয়ে তৈরি কন্ডিশনার দিয়ে নরম এবং মসৃণ করা যায়।

আরেকটি জরুরী তথ্য হল জবার সাথে আলাদা আলাদা ভাবে সঠিক পরিমাণে নারকেল তেল, অলিভ তেল, আদা, ডিম, পিঁয়াজ, ঘৃতকুমারী এবং নিম মিশিয়ে ব্যবহার করলে দ্রুত চুল গজায়।


Write a review

Note: HTML is not translated!
    Bad           Good

Joba Powder ( জবা গুড়া ) - 100g

  • Product Code: Product 49
  • Availability: In Stock
  • /-130.00

  • Ex Tax: /-130.00

This product has a minimum quantity of 100

Tags: জবা/ জবা ফুল /জবা ফুলের উপকারিতা/ জবা ফুলের কার্যকারিতা/Joba ful